গরবা ও ডান্ডিয়া রাস গুজরাতের নবরাত্রির দুটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নাচ। গরবা একটি ভক্তিমূলক বৃত্তনৃত্য, যা প্রদীপ বা দেবীর প্রতিমাকে ঘিরে করা হয়, তাতে হাততালি থাকে কিন্তু লাঠি থাকে না। ডান্ডিয়া রাস অপেক্ষাকৃত দ্রুত লয়ের জোড়ায় জোড়ায় নাচ, সাজানো লাঠি নিয়ে, যা মহিষাসুরের সঙ্গে দুর্গার যুদ্ধের কথা মনে করায় বলে বলা হয়। ২০২৬ সালে নবরাত্রি চলছে রবিবার ১১ অক্টোবর থেকে সোমবার ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত, আর দশেরা ২০ অক্টোবর।
হালনাগাদ: ৬ অক্টোবর ২০২৬।
গরবা ও ডান্ডিয়া রাসের মধ্যে পার্থক্য কী?
| গরবা | ডান্ডিয়া রাস | |
|---|---|---|
| মূল ভাবনা | দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত ভক্তিমূলক বৃত্তনৃত্য | প্রাণবন্ত লাঠিনৃত্য |
| উপকরণ | কিছু নেই; নর্তকেরা হাততালি দেন | একজোড়া সাজানো লাঠি (ডান্ডিয়া) |
| বিন্যাস | বৃত্ত, প্রায়ই সমকেন্দ্রিক, প্রদীপ বা প্রতিমাকে ঘিরে | জোড়ায় জোড়ায়, নাচ চলার সঙ্গে সঙ্গীর বদল হয় |
| গতি | ধীরে শুরু হয়ে ঘূর্ণিতে পৌঁছায় | দ্রুত ও চঞ্চল |
| সংশ্লিষ্ট কাহিনি | শক্তি, অর্থাৎ নারীরূপী দিব্যশক্তির আরাধনা | দুর্গা ও মহিষাসুরের মধ্যে অনুকৃত যুদ্ধ; কেউ কেউ একে কৃষ্ণের রাসলীলার সঙ্গেও যুক্ত করেন |
| ইউনেস্কো স্বীকৃতি | “গুজরাতের গরবা” ৬ ডিসেম্বর ২০২৩-এ অন্তর্ভুক্ত | আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত নয় |
বাস্তবে দুটি নাচ মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নবরাত্রির বেশিরভাগ রাতে সন্ধ্যা শুরু হয় গরবা দিয়ে, প্রায়ই আরতির সময়ের কাছাকাছি, এবং পরে গড়ায় ডান্ডিয়া রাসে, যদিও স্থানভেদে তা বদলায়।
গরবা কী?
ইউনেস্কো গরবাকে বর্ণনা করেছে নবরাত্রির সময় পরিবেশিত একটি আনুষ্ঠানিক ও ভক্তিমূলক নাচ হিসেবে; এই উৎসব শক্তি, অর্থাৎ নারীশক্তির প্রতি নিবেদিত। নাচটি হয় তেল-প্রদীপ জ্বালানো ছিদ্রযুক্ত মাটির হাঁড়ির চারপাশে, অথবা জগজ্জননী অম্বার প্রতিমাকে ঘিরে। নর্তকেরা সরল ভঙ্গিতে কেন্দ্রের চারদিকে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে বৃত্তাকারে ঘোরেন, একসঙ্গে গান গেয়ে ও হাততালি দিয়ে। শুরু হয় ধীর বৃত্তাকার চলনে, তারপর গতি ক্রমে বাড়তে বাড়তে ঘূর্ণিতে পৌঁছায়।
নামটি যুক্ত গর্ভদীপ-এর সঙ্গে, অর্থাৎ বৃত্তের মাঝখানে রাখা ছিদ্রযুক্ত মাটির হাঁড়ির ভেতরের প্রদীপের সঙ্গে। বেশ কয়েকটি সূত্র বলে, হাঁড়িটি গর্ভের প্রতীক আর আলোটি ভেতরে বেড়ে ওঠা প্রাণের।
ডান্ডিয়া রাস কী?
ডান্ডিয়া রাস নাচা হয় জনপ্রতি দুটি লাঠি নিয়ে, সাধারণত জোড়ায় জোড়ায়। একে প্রায়ই বর্ণনা করা হয় দেবী দুর্গা ও অসুররাজ মহিষাসুরের মধ্যে অনুকৃত যুদ্ধ হিসেবে, যেখানে লাঠির ঠোকাঠুকি দুর্গার তরবারির প্রতীক। অন্য বিবরণে রাস-কে যুক্ত করা হয় কৃষ্ণ ও গোপীদের বৃত্তনৃত্যের সঙ্গে, যা রাসলীলা নামে পরিচিত। এর উৎপত্তি নিয়েও সূত্রগুলির মধ্যে মতভেদ আছে: একটি একে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের নাচ বলে বর্ণনা করে, আর অন্যটি বলে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যগতভাবে একসঙ্গেই এটি খেলে এসেছেন। আজ সবাই এতে যোগ দেন।
ইউনেস্কো কি ডান্ডিয়া রাসকেও স্বীকৃতি দিয়েছে?
না। ইউনেস্কো বোতসোয়ানার কাসানে-তে আন্তঃসরকারি কমিটির ১৮তম অধিবেশনে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর গুজরাতের গরবা-কে মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ছিল তালিকায় ভারতের ১৫তম উপাদান। ইউনেস্কোর লেখায় বলা হয়েছে, গরবা আর্থ-সামাজিক, লিঙ্গ ও ধর্মীয় বাধা কমিয়ে সামাজিক সমতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ডান্ডিয়া রাস আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যদিও দুটি নাচ প্রায়ই একসঙ্গে নাচা হয়।
নবরাত্রি ২০২৬ কবে?
- শুরু: রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ঘটস্থাপনার সঙ্গে
- মহানবমী: সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- বিজয়াদশমী (দশেরা): মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬
আমার দেখা পঞ্জিকাভিত্তিক নির্দেশিকাগুলিতে এই তারিখগুলি সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে স্থানীয় পঞ্জিকায় একদিনের ফারাক হতে পারে, তাই স্থানীয় মন্দির বা পঞ্জিকা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রথম রাত থেকেই গুজরাত ও মুম্বইয়ে গরবার মরশুম শুরু হয়।
প্রথমবার গরবায় যোগ দিলে কিছু পরামর্শ
- বৃত্তকে অনুসরণ করুন। সবার সঙ্গে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে চলুন, আর পদক্ষেপের চিন্তার আগে হাততালির ছন্দ মেলান।
- সহজ একটি ধরন দিয়ে শুরু করুন। ভাদোদরার একটি জনপ্রিয় ধরন হলো ছয় পদক্ষেপের দোদিয়ু: প্রথমে সামনে, তারপর পিছনে, মাঝে মাঝে হাততালি দিয়ে।
- প্রশিক্ষণ লাগে না। গরবা সব বয়সের জন্য খোলা, অভিজ্ঞতা থাকুক বা না থাকুক মানুষ নাচেন।
- ডান্ডিয়া পরে। লাঠি সাধারণত শুরুর বৃত্তনৃত্যের পরে আসে, তাই আগে গা গরম করে নিতে পারবেন।
দেখুন: গুজরাতের গরবা
এই লেখার তথ্যসূত্র: গুজরাতের গরবা সম্পর্কে ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নথি ও তথ্যচিত্র; অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিবৃতি; গরবা ও ডান্ডিয়া রাস নিয়ে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ; গরবা নিয়ে Outlook Traveller-এর প্রতিবেদন; ভাদোদরার গরবা নিয়ে The Tribune-এর প্রতিবেদন; এবং Vedic Temple, Andaaz Fashion, Knewspaper ও Amdavad Gully-র পঞ্জিকাভিত্তিক নবরাত্রি ২০২৬ নির্দেশিকা। যেখানে সূত্রে মতভেদ আছে, লেখায় তা বলা হয়েছে। চিত্রটি মৌলিক।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
-
গরবা ও ডান্ডিয়ার মূল পার্থক্য কী?
গরবা প্রদীপ বা দেবীর প্রতিমাকে ঘিরে করা ভক্তিমূলক বৃত্তনৃত্য, হাততালি সহ, লাঠি ছাড়া। ডান্ডিয়া রাস দুটি সাজানো লাঠি নিয়ে জোড়ায় জোড়ায় নাচা অপেক্ষাকৃত দ্রুত নাচ, যা মহিষাসুরের সঙ্গে দুর্গার অনুকৃত যুদ্ধের কথা মনে করায় বলে বলা হয়।
-
গরবা ও ডান্ডিয়া কি একই নাচ?
না, যদিও নবরাত্রিতে প্রায়ই দুটি একসঙ্গে নাচা হয়। গরবা ঐতিহ্যগতভাবে লাঠি ছাড়া বৃত্তে নাচা হয়, আর ডান্ডিয়া রাসে জোড়ায় জোড়ায় লাঠি ব্যবহার হয়।
-
গরবার নর্তকেরা কোন দিকে ঘোরেন?
ইউনেস্কোর মতে, নর্তকেরা মাঝখানের প্রদীপ বা প্রতিমাকে ঘিরে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে বৃত্তাকারে ঘোরেন।
-
গরবো বা গর্ভদীপ কী?
এটি প্রদীপ জ্বালানো ছিদ্রযুক্ত মাটির হাঁড়ি, যা গরবা বৃত্তের কেন্দ্রে রাখা হয়। বেশ কয়েকটি সূত্র একে গর্ভের এবং ভেতরের প্রাণদায়ী আলোর প্রতীক বলে বর্ণনা করে।
-
ইউনেস্কো কি ডান্ডিয়া রাসকে স্বীকৃতি দিয়েছে?
না। ইউনেস্কো ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর গুজরাতের গরবাকে তাদের অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ভারতের ১৫তম উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। ডান্ডিয়া রাস আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
-
নবরাত্রি ২০২৬ কবে?
শারদীয় নবরাত্রি ২০২৬ শুরু হচ্ছে রবিবার ১১ অক্টোবর ঘটস্থাপনার সঙ্গে এবং চলবে সোমবার ১৯ অক্টোবর মহানবমী পর্যন্ত, আর বিজয়াদশমী (দশেরা) মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর। স্থানীয় পঞ্জিকা দেখে নিশ্চিত হোন।
-
গরবায় যোগ দিতে কি পদক্ষেপ জানতে হয়?
না। গরবা সব বয়স ও অভিজ্ঞতার মানুষের জন্য খোলা। বৃত্তকে অনুসরণ করুন, হাততালির সঙ্গে তাল মেলান, আর সহজ পদক্ষেপ চলতে চলতেই শিখে নিন।