অজন্তা ও ইলোরা মহারাষ্ট্রের দুটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শিলাখোদিত গুহা-সমষ্টি, দুটিই ১৯৮৩ সালে তালিকাভুক্ত। ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (পূর্বনাম ঔরঙ্গাবাদ) থেকে প্রায় ১০০ কিমি দূরের অজন্তায় রয়েছে ৩০টি বৌদ্ধ গুহা, যা প্রাচীন চিত্রকলার জন্য বিখ্যাত। শহর থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরের ইলোরায় রয়েছে বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মের ৩৪টি গুহা, যার মধ্যে কৈলাস মন্দির অন্যতম। অজন্তা সোমবার এবং ইলোরা মঙ্গলবার বন্ধ থাকে।
হালনাগাদ: ৬ অক্টোবর ২০২৬। বন্ধের দিন ও দূরত্ব একাধিক সাম্প্রতিক গাইড অনুসরণ করে লেখা; যাত্রার আগে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) কাছ থেকে সময়সূচি ও টিকিটের দাম যাচাই করে নিন।

অজন্তা ও ইলোরার মধ্যে পার্থক্য কী?
| অজন্তা | ইলোরা | |
|---|---|---|
| ইউনেস্কো তালিকাভুক্তি | ১৯৮৩ | ১৯৮৩ |
| গুহার সংখ্যা | ৩০ | ৩৪ (১২টি বৌদ্ধ, ১৭টি হিন্দু, ৫টি জৈন) |
| ধর্ম | বৌদ্ধ | বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন পাশাপাশি |
| সময়কাল | দুটি পর্যায়: প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২য়–১ম শতক এবং খ্রিস্টীয় ৫ম–৬ষ্ঠ শতক | প্রধানত প্রায় ৬০০–১০০০ খ্রিস্টাব্দ; ইউনেস্কোর সারসংক্ষেপে কাজের সময়কাল ১২শ শতক পর্যন্ত প্রসারিত |
| বিখ্যাত যার জন্য | বুদ্ধের জীবন ও জাতক কাহিনির প্রাচীন চিত্রকলা | পাথর কেটে তৈরি কৈলাস মন্দির (১৬ নম্বর গুহা) |
| শহর থেকে দূরত্ব | প্রায় ১০০ কিমি | প্রায় ৩০ কিমি |
| বন্ধের দিন | সোমবার | মঙ্গলবার |
অজন্তা গুহার বিশেষত্ব কী?
অজন্তার ৩০টি গুহা সহ্যাদ্রি পাহাড়ে নদী-গিরিখাতের ওপরের একটি ব্যাসল্ট পাথরের খাড়া দেয়ালে খোদাই করা। ইউনেস্কোর মতে প্রথম বৌদ্ধ গুহাগুলি খ্রিস্টপূর্ব ২য় ও ১ম শতকের, আর খ্রিস্টীয় ৫ম ও ৬ষ্ঠ শতকের গুপ্ত যুগে আরও অনেক সমৃদ্ধভাবে অলংকৃত গুহা যোগ হয়। মহারাষ্ট্র পর্যটন বিভাগ বর্ণনা করেছে খিলানাকৃতি ছাদ, খোদাই করা স্তম্ভ ও বড় স্তূপসহ প্রার্থনা-কক্ষের কথা। গুহাগুলি সবচেয়ে বেশি পরিচিত দেয়াল ও ছাদের চিত্রকলার জন্য, যেখানে বুদ্ধের জীবন ও তাঁর পূর্বজন্মের (জাতক কাহিনি) নানা ঘটনা আঁকা আছে।

- ১ নম্বর গুহা: এখানে রয়েছে পদ্মপাণির চিত্র, যা প্রায়ই স্থানটির সবচেয়ে পরিচিত দেয়ালচিত্র বলে উল্লেখ করা হয়।
- ২ নম্বর গুহা: বিধুরপণ্ডিত কাহিনিসহ জাতকের চিত্রফলক এবং চিত্রিত ছাদ।
- ১৬ ও ১৭ নম্বর গুহা: আরও জাতক আখ্যান, যার মধ্যে ১৬ নম্বর গুহার “মুমূর্ষু রাজকন্যা” ফলকটি রয়েছে।
সূত্রগুলি অজন্তার পরবর্তী পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতার কৃতিত্ব দেয় বাকাটক রাজবংশকে, বিশেষ করে রাজা হরিষেণকে।
ইলোরা গুহার বিশেষত্ব কী?
ইলোরার ৩৪টি গুহা প্রায় ২ কিমি দীর্ঘ একটি ঢালু পাহাড়ের গা বরাবর: ১–১২ নম্বর গুহা বৌদ্ধ, ১৩–২৯ হিন্দু এবং ৩০–৩৪ জৈন। ইউনেস্কো বলছে, এই সমষ্টি সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার চেতনা প্রতিফলিত করে, আর শিলাখোদাইয়ের কাজ তিনটি পর্যায়ে হয়েছিল। পণ্ডিতেরা বর্ণনা করেন, প্রথমে বৌদ্ধ পর্যায় (প্রায় ৬০০ থেকে ৭৩০ খ্রিস্টাব্দ), তারপর হিন্দু ও জৈন নির্মাণ (প্রায় ৭৩০ থেকে ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ)।
প্রধান আকর্ষণ ১৬ নম্বর গুহা, কৈলাস মন্দির, যা শিবকে উৎসর্গিত এবং কৈলাস পর্বতের প্রতীক হিসেবে রথের আকারে গড়া। একে বিশ্বের বৃহত্তম একক একশিলা খননকর্ম বলে বর্ণনা করা হয়, আর ইউনেস্কো একে ভারতের শিলাখোদিত স্থাপত্যের চূড়ান্ত পরিণতি বলেছে। এটি সাধারণ অর্থে গুহা নয়, বরং পাহাড়ের গা কেটে তৈরি একটি স্বতন্ত্র মন্দির। সাধারণত একে ৮ম শতকের শেষভাগের বলে ধরা হয় এবং রাষ্ট্রকূট রাজা কৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়; একটি বিখ্যাত ফলকে দেখানো হয়েছে রাবণ কৈলাস পর্বত কাঁপাচ্ছে আর শিব ভীত পার্বতীকে আশ্বস্ত করছেন।
কোনটি আগে দেখবেন?
- আগে বন্ধের দিন দেখে নিন। অজন্তা সোমবার এবং ইলোরা মঙ্গলবার বন্ধ, তাই সোমবারে অজন্তা বা মঙ্গলবারে ইলোরার পরিকল্পনা করবেন না।
- মাত্র একদিন থাকলে? একটি গাইড ইলোরার পরামর্শ দেয়, কারণ এটি অনেক কাছে এবং ১৬ নম্বর গুহাই সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য।
- দুই দিন থাকলে? ভাগ করে নিন: দুটি স্থান প্রায় ১০০ কিমি দূরে, তাই আলাদা দিনে দেখাই ভালো।
অজন্তা ও ইলোরায় কীভাবে যাবেন?
দুটিতেই যাওয়ার ঘাঁটি ছত্রপতি সম্ভাজিনগর, ২০২৩ সালে ঔরঙ্গাবাদ থেকে যার সরকারি নাম বদলানো হয়েছে, তাই সাইনবোর্ড ও ট্রেনের টিকিটে এখনও দুটি নামই দেখা যায়। শহরে বিমানবন্দর ও রেল স্টেশন আছে, আর গুহায় যেতে পর্যটকেরা বাস বা ট্যাক্সি নেন। অজন্তা প্রায় ১০০–১০৮ কিমি দূরে, গাড়িতে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা, তাই অধিকাংশ মানুষ সারা দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করেন; ইলোরা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিমি। একটি পুরোনো গাইডে অজন্তার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ইলোরার সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত লেখা আছে, কিন্তু সময় ও টিকিটের দাম বদলায়, তাই ASI-এর কাছে যাচাই করুন। ঐতিহ্য ভ্রমণের আরও ধারণার জন্য দেখুন আমাদের তাজমহল ও হাম্পি গাইড।
দেখুন: অজন্তা গুহা
এই প্রবন্ধে ব্যবহৃত সূত্র: অজন্তা ও ইলোরা বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের পৃষ্ঠা ও চলচ্চিত্র; মহারাষ্ট্র পর্যটনের অজন্তা পৃষ্ঠা; ইলোরা গুহা বিষয়ে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ; Britannica Kids; কৈলাস মন্দির নিয়ে Sahapedia ও Cornell University Library-র টীকা; এবং বন্ধের দিন ও দূরত্বের জন্য Nomira, Pahun Holidays, Ira Hotels, Travel India Smart ও অন্যান্যের ভ্রমণ গাইড। সূত্রগুলির মধ্যে অমিল থাকলে লেখায় তা উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিগুলি ক্রিয়েটিভ কমন্স বা পাবলিক ডোমেইনের শর্তে ব্যবহৃত, প্রতিটি ছবির নিচে কৃতজ্ঞতা দেওয়া আছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
-
অজন্তা ও ইলোরা কোন দিন বন্ধ থাকে?
অজন্তা সোমবার এবং ইলোরা মঙ্গলবার বন্ধ থাকে, তাই অজন্তার জন্য সোমবার বাদে এবং ইলোরার জন্য মঙ্গলবার বাদে যে কোনো দিন বেছে নিন।
-
অজন্তা ও ইলোরায় কতগুলি গুহা আছে?
অজন্তায় ৩০টি বৌদ্ধ গুহা। ইলোরায় ৩৪টি গুহা: ১২টি বৌদ্ধ, ১৭টি হিন্দু ও ৫টি জৈন।
-
ঔরঙ্গাবাদ থেকে অজন্তা ও ইলোরা কত দূরে?
অজন্তা ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (পূর্বনাম ঔরঙ্গাবাদ) থেকে প্রায় ১০০ কিমি, গাড়িতে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা, আর ইলোরা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিমি। দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১০০ কিমি।
-
অজন্তা ও ইলোরা কি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান?
হ্যাঁ। দুটিই ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
-
ইলোরার কৈলাস মন্দির কী?
১৬ নম্বর গুহা কৈলাস মন্দির শিবের উদ্দেশে নির্মিত, পাহাড়ের গা কেটে তৈরি রথাকৃতি একটি মন্দির। একে বিশ্বের বৃহত্তম একক একশিলা খননকর্ম বলে বর্ণনা করা হয় এবং সাধারণত ৮ম শতকের শেষভাগের বলে ধরা হয়।
-
অজন্তা গুহা কীসের জন্য বিখ্যাত?
অজন্তা বিখ্যাত বুদ্ধের জীবন ও জাতক কাহিনি নিয়ে আঁকা প্রাচীন বৌদ্ধ দেয়ালচিত্রের জন্য, পাশাপাশি শিলাখোদিত প্রার্থনা-কক্ষ ও বিহারের জন্যও।
-
এক দিনে কি অজন্তা ও ইলোরা দুটোই দেখা যায়?
কঠিন, কারণ দুটি প্রায় ১০০ কিমি দূরে। গাইডেরা আলাদা দিনে দেখার পরামর্শ দেয়, আর হাতে একদিন থাকলে ইলোরা বেছে নিতে বলে।
-
ঔরঙ্গাবাদ ও ছত্রপতি সম্ভাজিনগর কি একই?
হ্যাঁ। ২০২৩ সালে ঔরঙ্গাবাদের সরকারি নাম বদলে ছত্রপতি সম্ভাজিনগর করা হয়েছে, যদিও সাইনবোর্ড ও টিকিটে এখনও দুটি নামই দেখা যায়।